আজকের খবরে দেখলাম যে মাগুরাতে লালন উৎসবে আক্রমণ চালিয়েছে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকেরা। তারা ১১-১২ জন বাউলকে মারধর করে আহত করেছে এবং লালন উৎসবের মঞ্চ ভেঙে ফেলেছে। লালনের যে মর্মকথা তা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে। বাঙালি'র মানসিক বৈশিষ্ট্য প্রাচীন উপনিষদে খুব ভালভাবেই উল্লেখ হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল "বাঙালিরা পাখির মত"। এর সহজ অর্থ হল, তারা কোন একক ধর্মের ফাঁদে কখনও আটকে থাকত না। নিজস্ব মত ও নিজস্ব ধারণা নিয়ে নিজেদের জীবন যাপন করত। উপনিষদের কথাগুলো নেগেটিভ ভাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে সেটাই পজিটিভ লাগে। বাঙালিরা কোন একক আগ্রাসী ধর্মের মতবাদে নিজেকে আত্মসমর্পণ করত না (পাখির মত এক ডালে বসে থাকত না, এক ডাল থেকে আরেক ডালে উড়ে বেড়াত)। সেকালের মত একালেও বাঙালি কোন বিদেশী জাদুতে মুগ্ধ থাকে না। তারা নিজস্ব দর্শন, নিজস্ব মর্ম খুঁজে নিয়ে প্রাত্যাহিক জীবন যাপন করে। এক উদারবাদী ভাবধারায় নিজের স্বস্তি খুঁজে পায়। আর আরবীয় সংস্কৃতি এই মহান মানসিকতাকে আক্রমণ করে। আমরা আরবীয় তরবারি নিচে আত্মসমর্পণ করেছি। আমরা যুদ্ধবাজ নই, তাই যুদ্ধবাজদের নিকট পরাজিত হয়েছি। আরবীয় সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিকে খারাপ বলে, আমরা অপগণ্ড জাতি তাই মেনে নিয়েছি। আরবীয় সংস্কৃতির দালালরা এখনও বাংলাদেশের পথে-প্রান্তের ডাউনোসরের মত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আক্রমণ করে ভেঙে দিচ্ছে লালনের মত আত্ম অন্বেষণমূলক দার্শণিক অভিব্যক্তিকে। আর মানসিকভাবে পরাজিত পুলিশ বলছে তেমন কিছু হয়নি। উল্টো তারাই অভিযোগ করে বলেছে যে ইসলামবিরোধী কথা বলার কারণে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা উৎসব ভেঙে দিয়েছে। এমন প্রচার করা হয় যে ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম। সেখানে কোন জোরজবরদস্তি নেই। এটা কি মূর্খের দল? সামান্য সমালোচনা সহ্য করতে ইসলাম সহ্য করতে পারে না? ইসলামীরা কি পারতো না বাউলদের বক্তব্যকে যুক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করার? শক্তি প্রয়োগ করা কেন? এটা কি জোর করে বাঙালি সংস্কৃতিকে থামিয়ে রাখার অপচেষ্টা নয়? ইসলামী আগ্রাসন কি বাঙালি সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়ার অপচেষ্টা করছে না? তারা বলে যে তারা নাকি শান্তির দালাল। কিন্তু এই কাজটা কি অশান্তি তৈরি করছে না। মিথ্যাবাদী ইসলামকে মানুষ এসব ঘটনা দিয়েই চিনে নেবে। নতুন প্রজন্ম বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।খবরের লিংক: বিডিনিউজ২৪

2 comments:
হ্যাঁ, আপনার বিশ্লেষণ আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। আরবের সংস্কৃতি আমাদের দেশে যেভাবে পেনিট্রেশন করা হয়েছে, তার কবল থেকে মুক্ত হওয়া খুব কঠিন হবে সন্দেহ নেই। তবে আমি মনে করি নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক। দেশের সম্পদ-সংস্কৃতির রক্ষা করার দায় তারা নিজেরাই নিজের ঘাড়ে তুলে নেবে। বিভ্রান্ত কিছু তো থাকবেই, তবে সচেতন ও সতর্ক নতুন প্রজন্মের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে এ আমি বিশ্বাস করি।
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের ভালোবাসা নাই এটা ভাবতেই কেমন যেন লাগে। এরা কি রোবট নাকি জোম্বি (জিন্দা লাশ)?
Post a Comment