Friday, April 20, 2012

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীশিক্ষা

মুসলমানরা কথায় কথায় বলে থাকে যে ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে ঘটনা ভিন্নরকম। আজ বিডিনিউজ২৪ এ একটা খবর পড়লাম। আফগানিস্তানের। সেখানে মেয়েদের শিক্ষাদীক্ষা তথা পড়ালেখাকে খাঁটি মুসলমানরা কি চোখে দেখে, কিভাবে ব্যাখ্যা করে, বালিকা মেয়েদের পড়াশোনাতে ইসলামের অংশগ্রহণ কিরূপ তা এই খবরে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। খবরের শিরোনাম "শতাধিক ছাত্রীকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা"। কোন কোন গাছের খায় তলারটাও কুড়ায় টাইপের মুসলমান হয়তো বলবে দু'একটা ঘটনা দিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করা ঠিক না। তাদের জন্য খবরটি সম্পূর্ণ বিডিনিউজ২৪ এর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমার এই ব্লগে রেখেদিলাম।

শতাধিক ছাত্রীকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা
        Tue, Apr 17th, 2012 9:39 pm BdST

আফগানিস্তান, এপ্রিল ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রীকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা চলেছে। নারীশিক্ষা বিরোধী কট্টরপন্থি জঙ্গিরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার স্কুলটির প্রায় ১৫০ ছাত্রী বিষাক্ত পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে মাথাব্যথা ও বমি উপসর্গে আক্রান্ত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরেছে।

উত্তরাঞ্চলের তাখার প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জান মোহাম্মদ নবিজাদা বলেন, “শ্রেণীকক্ষে তারা যে পানি পান করেছে তা বিষাক্ত ছিল এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ নিশ্চিত। এটা হয় নারীশিক্ষা বিরোধীদের অথবা দায়িত্বজ্ঞানহীন সশস্ত্র ব্যক্তিদের কাজ।”

কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নিশ্চিত যে পানিতে বিষ মেশানো হয়েছিল। কেননা যে বড় ট্যাংক থেকে পানির জগগুলো ভরা হত তা দূষিত ছিল না।

তাখার জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হাফিজুল্লাহ সূফী বলেন, “এটি স্বাভাবিক অসুস্থতা নয়। ছাত্রীদের মারার চেষ্টায়ই একাজ করা হয়েছে।”

তবে কর্মকর্তাদের কেউ প্রতিশোধের ভয়ে এ হামলার দায়ে অভিযুক্ত কোন সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম বলেননি।

তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর সব বয়সী নারীদের জন্য শিক্ষা নিষিদ্ধ করে। ২০০১ সালে তারা ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে আফগানিস্তানে বিশেষ করে কাবুলে নারীরা স্কুলে যাচ্ছে।

কিন্তু তারপরও মেয়েদের, শিক্ষকদের এবং স্কুল ভবন মাঝে মাঝেই হামলার শিকার হচ্ছে। আর সাধারণত এ ধরণের হামলা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে যেখান থেকে তালেবান জঙ্গিরা সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে।

তবে আফগানিস্তান সরকার অবশ্য দাবি করেছিল যে তালেবানরা নারী শিক্ষা বিরোধীতা থেকে সরে এসেছে।

কিন্তু জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডে এর বিপরীত চিত্রই ফুটে উঠেছে। অতীতে বহুবার ইসলামী চরমপন্থিরা স্কুলে যাওয়ার পথে নারী ও কন্যাশিশুদের মুখে এসিড নিক্ষেপ করেছে।

১৯৯৬-২০০১ সালে তালেবান সরকার ইসলাম বিরোধী ঘোষণা দিয়ে নারী শিক্ষাকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এইচএএইচ/এলকিউ/২১৩০ঘ.
খবেরর লিঙ্ক
আশা করি এই খবরটার মাধ্যমে ইসলামপ্রিয় মুসলমান নারীরা তাদের শিক্ষাদীক্ষা ও কর্মপন্থা নিয়ে কিছুটা দিকনির্দেশনা পাবেন। অবশ্য যারা পরাজিত, আত্মসমর্পিত ও সুবিধাবাদী শ্রেণীর নারী তাদের কথা আলাদা। ইসলামী সংস্কৃতির স্বরূপ কিরকম, তা যদি বাংলাদেশের মুসলিমারা এখনও না বোঝেন, তাহলে তাদের কপালে যে কি বিপদ আছে, তা বোঝার জন্য পন্ডিত হতে হবে না। খবরটি আরেকবার পড়লেই হবে।

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger