ধরি, আপনি বেড়াল পুষতে পছন্দ করেন। আপনার বাড়িতে অনেকগুলো বেড়াল মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আমি বেড়াল একটুও পছন্দ করি না। বেড়াল দেখলেই মেজাজ গরম হয়ে যায়। সুযোগ কিংবা নাগালে পেলে কষে লাত্থি মারি। আমি একদিন আপনার বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। গেস্টরুমে বসে আছি। সোফাতে বসে দুজনে গল্প করছি। এমন সময় আপনার প্রিয় একটি বিড়াল আপনার পায়ে এসে গা ঘষাঘষি করছে। আপনিও তাকে হাত দিয়ে একটু আদর করে দিলেন। বিড়ালটি আমার কাছে আদর পাবার আশায় আমার পায়ের কাছাকাছি এল। আমি করলাম কি? পায়ের কাছে আসামাত্র বিড়ালটিকে ধরাম করে একটা লাথি মারলাম। বিড়ালটি উড়ে গিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। মিউ মিউ করতে করতে খোলা দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল।এখন আপনার প্রতি আমার প্রশ্ন: আপনি আমাকে কি ভাববেন? আমার প্রতি আপনার মনোভঙ্গি কেমন হবে? নিশ্চয় আপনি আমাকে চরম বেয়াদপ, অভদ্র, অমানবিক, হিংস্র ইত্যাদি বিশেষণে বিভূষিত করবেন। তাই না?
ঠিক তাই। এটাই স্বাভাবিক। এটাই সাধারণ নীতি অনুয়ায়ী আকাঙ্ক্ষিত।
ইসলাম ধর্ম ঠিক এই বেয়াদপীটা ভারতীয় ধর্মের সাথে করেছে। যখন ইসলাম এই ভূখণ্ডে এল তখন দেখল যে এই অঞ্চলের মানুষেরা গরু নামক প্রাণীটিকে সম্মান করে। তাকে হত্যা করে না, তার মাংস ভক্ষণযোগ্য মনে করে না, বরং তাকে সম্মান করে। ইসলাম ইচ্ছা করলে ভারতীয় ধর্মের প্রতি ভদ্রতাবশত গরু নামক প্রাণীটিকে হত্যা করা নিষেধ করতে পারতো। কিন্তু তা করেনি। বরং বর্ণিত গল্পের আমার মতো চরম বেয়াদপি করেছে। ভারতীয় ধর্মের প্রতি সামান্যতম সম্মান প্রদর্শন করেনি। ইসলাম ধর্মে কোরান হাদিসে গরুর মাংস খাওয়া বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই বলে অন্যের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করতে হবে? এই বেয়াদপি করার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? এটা কোন ধরণের মানসিকতা? এরকম নানা কারণে- ইতিহাসের নতুন পাঠ অভিজ্ঞতায় ইসলাম ধর্ম একটি চরম অভদ্র এবং বেয়াদপ ধর্ম হিসেবেই অভিহিত হবে। মুসলমানরা নিজেদের ধর্মানুভূতি নিয়ে খুব আদিখ্যেতা করে; কিন্তু অন্য ধর্মের প্রতি তাদের মনোভঙ্গী কেমন? অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতির প্রতি তাদের সম্মানবোধ কেমন সে প্রশ্ন আজ তরুণ সমাজ করতে চায় এবং করে। এই বাস্তবতা আজ আর অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

0 comments:
Post a Comment