বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশী সংস্কৃতির চর্চা কেন্দ্র আছে। ফ্রান্স, জার্মানী, রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান প্রভৃতি দেশ তাদের নিজেদের দেশের সংস্কৃতির চর্চা ও প্রচারের জন্য বাংলাদেশে তাদের কেন্দ্রসমূহ পরিচালনা করে থাকে। এই কেন্দ্রগুলোতে সেইসব দেশের ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, সংস্কৃতির নানা উপলক্ষে নানারকম অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীরা আলোচনা, আবৃত্তি, অভিনয়, গান, নাচ ইত্যাদির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সাংস্কৃতিক দিবস বা ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিরও কোন না কোন উপাদানেরও উপস্থাপন, চর্চা করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে সেই বিদেশী দেশটির সংস্কৃতি বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত জন্মেছে মসজিদ আর মসজিদ। এই মসজিদগুলোকে আসলে আমার 'আরবীয় সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র' বলে মনে হয়। এখানে সম্পূর্ণ আরবীয় ভাবধারা, ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির চর্চা করা হয়। আরব নামক একটি মরুভূমীয় রুক্ষ্ম দেশের প্রতি নগ্ন আত্মসমর্পণ, আজানু শ্রদ্ধা ইত্যাদির প্রশিক্ষণ, প্রতিপালন এবং প্রসারণ করা হয়। মসজিদগুলোর অনেকগুলোই আরব এবং মুসলমান সংশ্লিষ্ট দেশের মাসোহারা পায়। কিন্তু বোকা বাঙালি জানেনা, সে কিভাবে নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করছে। বাঙালিরা এখন এতটাই চিন্তাপ্রতিবন্ধী যে একটা সবুজ দেশের মানুষ হয়েও তারা তপ্ত বালুকাভূমির দেশের সংস্কৃতির প্রতিপালন করছে। বাঙালিরা এখন নিজের টাকাতেই মসজিদ চালায়। একটা বিদেশী দেশের সংস্কৃতির প্রতি এতটা আত্মসমর্পণ, এতটা দাসত্ব, এতটা বিস্মৃতিপরায়নতা বাঙালির হাজার বৎসরের সংস্কৃতির ইতিহাসে কালো ছায়া হয়ে থাকবে। দেশের মানুষের বাসস্থান সমস্যা প্রকট। কিন্তু মসজিদগুলো টাইলস/ পাথর ইত্যাদি দিয়ে সাজানো, চকচকে, ঝলমলে।
একটা সমৃদ্ধ সংস্কৃতিমান জাতি কিভাবে নিজ ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে বিদেশী সংস্কৃতির পায়ে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করে তার জ্বলজ্যন্ত প্রমাণ হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ঘরের আশে পাশে থাকা এই মসজিদগুলো।
Tuesday, February 14, 2012
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 comments:
Post a Comment