Sunday, February 26, 2012

একুশের শহীদ মিনার নিয়ে ইসলামী আচরণের খবর

বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলা ভাষা। এই ভাষা পাকিস্তানের ইসলামী শাসক গোষ্ঠী কুক্ষিগত করে রাখতে চেয়েছিল। ভাষাপ্রেমিক বাঙালিরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। সেই অমর লড়াইয়ের প্রতীক শহীদ মিনার। বাংলা ভাষাপ্রেমী বাঙালিমাত্রই শহীদ মিনারকে একুশের প্রহরে প্রহরে পরম শ্রদ্ধা দিয়ে ফুলে ফুলে ঢেকে দেয়। আর সেই শহীদ মিনার সম্পর্কে ইসলামী মনোভাবাপন্ন মানুষদের প্রতিক্রিয়া কিরকম তার কিছু নমুনা কয়েকটা খবরে প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রয়োজন বিবেচনায় খবরগুলো আমার এই ব্লগে রেখে দিলাম।

খবর ০১:
‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি তুলে একুশের অনুষ্ঠানে হামলা

টাঙ্গাইল, ফেব্রুয়ারি ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- টাঙ্গাইলের সখিপুরে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান তুলে এক দল লোক একুশের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।

ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সখীপুর উপজেলা পরিষদ সন্ধ্যায় ডাক বাংলো চত্বরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল।

মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৃত্য প্রতিযোগিতা চলার সময় অনুষ্ঠানে হামলা হয়।

অনুষ্ঠান আয়োজনে গঠিত কমিটির সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলীম মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারায়ে তাকবির ধ্বনি তুলে ৩০-৪০ জন অতর্কিত হামলা করে। তারা অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার, মাইক ও সাউন্ড বক্স ভাংচুর করে।”

ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ডাকবাংলো চত্বরে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার ছিল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার বলেন, অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জন জানিয়েছেন, মাগরিবের নামাজের সময় অনুষ্ঠানস্থলের মাইকে গান বাজছিল। এতে কাছের জামে মসজিদে নামাজে সমস্যা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে নামাজ শেষে অনুষ্ঠানে হামলা চালায়।

খবর ০২:

বরগুনায় শহীদ মিনার ভাংচুর

একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাথরঘাটায় একটি মাদ্রাসায় নির্মিত শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে পাথরঘাটা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সোমবার শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ভেঙে ফেলার পর পুলিশের উদ্যোগে পুনর্র্নিমাণ করে তাতে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী শাহাদাত হোসেন শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলেন।

তবে শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেছেন, শহীদ মিনার নির্মাণের সময় তিনি নিষেধ করলেও ভাঙার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

পাথরঘাটা থানার ওসি উজ্জল কুমার দে জানান, রাত ১১টার দিকে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে তা পুনর্র্নিমাণ করে।

একুশের প্রথম প্রহরে ওই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, বলেন তিনি।

১ এবং ২ নং খবরের লিংক একই। খবর লিংক

খবর ০৩:
গফরগাঁওয়ে শহীদ মিনার ভেঙ্গে পুকুরে নিক্ষেপ
জামায়াত নেতার কান্ড
নিজস্ব সংবাদদাতা, গফরগাঁও, ২১ ফেব্রুয়ারি ॥ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উপজেলার চাইরবাড়ীয়া ফাজিল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে তাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করে। কিন্তু বাদ সাধে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তালেব। তিনি কলাগাছ দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে মাদ্রাসার পুকুরে ফেলে দেন। এতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় কিছু লোক তৎপর হয়ে ওঠে। জানা যায়, চাইরবাড়ীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় কোন শহীদ মিনার নেই। তাই উৎসাহী শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা মাঠে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে এতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করে। কিন্তু মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু তালেব উক্ত শহীদ মিনার ভেঙ্গে পুকুরে ফেলে দেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল হক বলেন, প্রিন্সিপাল হুজুর শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে দেয়ায় আমরা ফুল দিতে পারিনি। চাইরবাড়ীয়া বাজারে ব্যবসায়ী আঃ ছালাম বলেন, হুজুর জামায়াতের লোক তাই ফুল দেয়া পছন্দ করেন না। এ কারণেই শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আঃ হামিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা শুনে আমি প্রিন্সিপাল আবু তালেব সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, দুনিয়া জুড়ে এ দিনটি পালন করছে সবাই, আর আপনি এটা ভেঙ্গে ফেলে দিলেন? কাজটি ভাল করেননি। আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী মেম্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিচার দাবি করেন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভা আহ্বান করেছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তালেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, দিবসটি উপলক্ষে মাদ্রাসায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিনি বলেন, মাঠে কিছু কলাগাছ ছিল আমি তা পরিষ্কারের লক্ষ্যে পুকুরে ফেলে দিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মাদ্রাসায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রভাতফেরির কোন অনুষ্ঠান ছিল না। উল্লেখ্য, উপজেলার অর্ধশত মাদ্রাসায় দিবসটি উপলক্ষে কোন প্রভাতফেরি ও পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়নি।
খবরের সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger