প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় "দিনাজপুরে ৭৪১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই" শীর্ষক খবরটি এই পোস্টের সাথে সংযুক্ত করলাম।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ভাষা আন্দোলনের ৫৮ বছর এবং স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরও দিনাজপুর জিলা স্কুল, সরকারী গার্লস স্কুলসহ জেলার ৫৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন কিংবা অমর একুশে সম্পর্কে কিছুই জানে না।আমি মনে করি সরকারের উচিত মাদ্রাসাগুলোকে পুরোপুরি প্রচলিত আইনের আওতায় নিয়ে আসা। মাদ্রাসার হুজুররা নানারকম ভণ্ডামী করতে পারবে, কিন্তু বাংলা ভাষাকে সম্মান করবে না, তা হবে না।
জেলা শিক্ষা দফতর সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে ২ হাজার ৮৫টি বিদ্যালয় এবং কামেল, ফাজিল ও আলেম মিলিয়ে ২৭৩টি মাদ্রাসা রয়েছে। স্থানীয় এক জরিপ থেকে জানা যায়, জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬৮ এবং ২৭৩টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিতেও কোন শহীদ মিনার নেই। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা অমর একুশে, ভাষা আন্দোলন কিংবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেনি। জেলা ও উপজেলা সদর ছাড়া গ্রামাঞ্চলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একুশে ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকে। গ্রামাঞ্চলের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলোও অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দিবসটি পালন না করায় অধিকাংশ শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি একটি ফুল দেয়ার কেউ থাকে না। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মাঝে মধ্যে ফুল দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোন আলোচনাসভাও হয় না। জেলার ২৭৩ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিতেও কোন শহীদ মিনার নেই।
দৈনিক জনকণ্ঠ

0 comments:
Post a Comment