Friday, March 2, 2012

শক্তিপ্রয়োগে কোরান শিক্ষা

মাদ্রাসার অনিচ্ছুক ছাত্রকে জোর করে পায়ে শিকল বেঁধে কোরান শিক্ষা দেয়ার নমুনাসৌদী কোরান-হাদিস সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার শিকার বাঙালি শিশু আউয়াল

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের পাশের মাদ্রাসার হুজুর এক ছাত্রকে কোরান পড়তে বাধ্য করার জন্য পায়ে শেকল আর ঘাড়ে গাছের গুড়ি বেধে দিয়েছে। টানা তিন দিন ধরে শাস্তি দিয়ে তার মন কোরান পড়তে ও মানতে বাধ্য করার ইমানী দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু বাধ সাধলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান খান। তিনি নয়নাভিরাম কুয়াকাটার সৈকত সংলগ্ন মহিপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পুকুরে শেকল বাঁধা অবস্থায় শিশুটিকে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করার পর মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ আনোয়ার জাহিদ ও নেছার উদ্দিন (১৫) নামের অপর এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ'র যুক্তি “শিশুটি বখাটে প্রকৃতির বলে তার বাবা আমাকে বলে- হুজুর আমার ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানাতে হবে, তাতে ওকে যত শাস্তি দিতে হয় দিন। তিন দিন আগে তার বাবা বেল্লালই মাদ্রাসায় এসে শেকল দিয়ে ছেলেকে বেঁধে রেখে গেছে।” তিনি ২৫ বছর ধরে মাদ্রাসায় চাকরি করছেন। এর আগেও নিশ্চয় এইরকম জোর জবরদস্তি করে শিশুদেরকে কোরান হাদিস পড়তে বাধ্য করেছেন। কিন্তু কেউ কোনদিন তাতে ত্রুটি দেখেননি। ইসলামী মানসিকতা বোধহয় একেই বলে।
খবরটি প্রয়োজনীয় বিবেচনায় সম্পূর্ণ এই ব্লগপোস্টে রেখে দিলাম।
পায়ে শেকল, ঘাড়ে গাছের গুঁড়ি দিয়ে শিশুকে শাস্তি!
Tue, Feb 28th, 2012 11:10 pm BdST

পটুয়াখালী, ফেব্রুয়ারি ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ছোট্ট শিশু। বয়স দশের মতো হবে। দেখলেই যে কারো মায়া লেগে যাওয়ার কথা। ঠিকমতো পড়াশোনা না করার অপরাধে সেই শিশুকেই কিনা পায়ে শেকল আর ঘাড়ে গাছের গুঁড়ি দিয়ে টানা তিন দিন শাস্তি দেওয়া হলো!

মঙ্গলবার সকালে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন মহিপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে এই অমানবিক শাস্তির শিকার আউয়াল হোসেন নামে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

মহিপুর তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মোহাম্মদ আবুল কাসেম হাওলাদার বলেন, “মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পায়ে শেকল ও ঘাড়ে ১৫-২০ কেজি ওজনের গাছের গুঁড়ি বাঁধা অবস্থায় মাদ্রাসার পুকুরে গোছল করতে দেখে মহিপুর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কলাপাড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান খান তাদের খবর দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ আনোয়ার জাহিদ ও নেছার উদ্দিন (১৫) নামের অপর এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নেছারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিন মাস আগে মহিপুর নূরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় আউয়ালকে ভর্তি করান তার বাবা জেলে বেল্লাল। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি।

পুলিশ কর্মকর্তা আবুল কাসেম হাওলাদার বলেন, “ঠিকমত মাদ্রাসায় না যাওয়ার অপরাধে গত ২৬ ফেব্র“য়ারি থেকে টানা তিন দিন এই শিশুটির উপর নির্মম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে।”

অবশ্য মাদ্রাসা সুপার আনোয়ার জাহিদের দাবি, শিশুটির অভিভাবকই পায়ে শেকল ও ঘাড়ে গাছের গুঁড়ি বেঁধে মাদ্রাসায় রেখে গিয়েছিলো।

তিনি বলেন, “শিশুটি বখাটে প্রকৃতির বলে তার বাবা আমাকে বলে- হুজুর আমার ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানাতে হবে, তাতে ওকে যত শাস্তি দিতে হয় দিন। তিন দিন আগে তার বাবা বেল্লালই মাদ্রাসায় এসে শেকল দিয়ে ছেলেকে বেঁধে রেখে গেছে।”

“গত ২৫ বছর ধরে এ মাদরাসার খেদমত করছি। আমার কোনো কাজে ক্রটি কেউ কোনো দিন দেখে নাই”, যোগ করেন আনোয়ার জাহিদ।

শিশুটির মা ফাহিমা সাংবাদিকদের বলেন, “মাদ্রাসায় ফাঁকি দেয় বলে আমিই ওর বাবাকে মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরের কাছে বেঁধে রেখে আসতে বলেছিলাম।”

তবে কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইসহাক আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের মারধর ও বেত্রাঘাত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম/প্রতিনিধি/এমএইচপি/এএল/২৩০৭ ঘ.
খরবেরর লিংক: bdnews24.com
ইসলামে কোন জোর জবরদস্তি নেই বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু আসলে যে ইসলাম একটি ভয়ানক হিংস্র নৃশংস নিষ্ঠুর ধর্ম তা অনেকেই ধর্মীয় ভাবাবেশে বুঝতে চায়না। বরং অপপ্রচার করে এবং তাতে বিশ্বাস করে। কিন্তু এই খবর এটাই প্রমাণ করে যে মানুষ নিজে থেকে কোরান পড়তে বা শিখতে চায়না। মানুষকে জোর করে হুমকি ধামকি দিয়ে শাস্তি দিয়ে সৌদী আরবের সংস্কৃতির তলানী কোরান হাদিস পড়তে বাধ্য করা হয়।

2 comments:

ভোরেরপাখি said...

কোরান শেখানোর এটাই একমাত্র তরিকা। একেবারে বলদগোত্রের কেউ না হলে, কোরানকে আগ্রহসহকারে কেউ পড়তে চাইবে না। মাদ্রাসার হুজুর সাহেব ইসলামী আইন অনুযায়ী ঠিক কাজটাই করেছেন। এতে মানুষের তৈরি করা আইন দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। দেখছেন না তিনি বলেছেন “গত ২৫ বছর ধরে এ মাদরাসার খেদমত করছি। আমার কোনো কাজে ক্রটি কেউ কোনো দিন দেখে নাই”। কোন মডারেট মুসলমান কোনদিন মাদ্রাসায় গিয়ে এই শিক্ষক নামধারীদের কোন হেদায়েত দিয়েছে এটা দেখেছেন কখনও? বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্যাতন করা যাবে না বলে তো এদেরকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। মাদ্রাসার হুজুররাই তার এই কথার বিরোধীতা করছে সবচেয়ে বেশি।

sajal said...

এভাবে পড়াশোনা শেখানো মধ্যযুগীয় পদ্ধতি। আরবরা মধ্যযুগ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। আমরা বাঙালিরা আধুনিক যুগে বাস করেও শিক্ষাব্যবস্থা গড়েছি মধ্যযুগীয় আরব থেকে। এ আমাদের দীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger