সাতক্ষীরায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর লুটতরাজ ও ধ্বংস করার যে ঘটনা তা মূলধারার পত্রিকাগুলোর মধ্যে একমাত্র 'দৈনিক জনকণ্ঠ' পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলো, সমকাল, ইত্তেফাক, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ ইত্যাদি পত্রিকার কোনটিতেই প্রকাশিত হয়নি। যে গল্পটির নাট্যরূপ নিয়ে এতকিছু সেই 'হুযুর কেবলা' গল্পের গল্পকার 'আবুল মনসুর আহমদ' এর পুত্র মাহফুজ আনামের 'ডেইলি স্টার' পত্রিকাতেও ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। ডেইলি স্টার ও নিউএজবিডি পত্রিকাতে ঘটনাটি এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যেন দোষটি আক্রমণের শিকার যারা হয়েছে তাদের। তারা কারা সে পরিচয়ও অবশ্য পত্রিকাদুটো প্রকাশ করেনি।
এর আগে হাটহাজারীতে হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ঘটনাটিও মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়নি। কেন? হিন্দুদের উপর আক্রমণ, লুটতরাজ হলে তা কি কোন ঘটনার মর্যাদা পায় না? বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া যেমন ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বলেছিল, হিন্দুদের উপর কোন নির্যাতন হয়নি। সব মিডিয়ার অপপ্রচার। এবার সেই মিডিয়াওয়ালারা নিজেরাই ঘটনা চেপে গেলেন। হিন্দুদের উপর নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এসব কোন ঘটনা নয়, কিন্তু চরিত্রহীন মোহাম্মদ সম্পর্কে সত্যি কথা বলাটা ঘটনা, নাকি? সাতক্ষীরায় জামাতে ইসলামীর সংযোগ, শিবিরের সহিংসতা, বাইরের গ্রাম থেকে সন্ত্রাসী আমদানি এসব কোন ঘটনাই মনে হল না আমাদের দেশের নিরপেক্ষ দাবীদার পত্রিকাগুলোর কাছে। জামাতে ইসলামী'র কর্মীরা হয়ে গেল মমিন মুসলমান। তাদের প্রাণে আঘাত লেগেছে, তাই আক্রমণ তো করবেই। মাত্র তো দুএকটা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কাউকে তো আর মেরে ফেলা হয়নি। এই তো? মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান এদের চরিত্র যে কেমন তা আর ঢাকা নেই। অবশ্য এরা নিজেরাই নিজেকে নগ্ন করেছেন। হাজার হোক সাচ্চা মুসলমানের তকমা লাগাতে হবে তো। মুসলিম মানস আর কাকে বলে?
পত্রিকাওয়ালারা সরকারের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানারকম প্রতিবাদ করে। কিন্তু এই ভয়ংকর ঘটনাকেযে তারা নিজেরাই আড়াল করলেন, সেন্সর করলেন, সে বিষয়ে কি বলবেন? অবশ্য কিছুই তারা বলবেন না। জবাবদিহিতা এখনও বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
Friday, April 6, 2012
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 comments:
Post a Comment