Saturday, May 5, 2012

তাম্রলিপ্তিতে বাংলাদেশের ইতিহাস

বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। বহিরাগত আক্রমণকারীর জবানে লিখিত ইতিহাসে বাঙালি সম্পর্কে অনেক আজেবাজে কথা লেখা হয়েছে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, মানুস তত বেশি সংস্কৃতিবোধসম্পন্ন হচ্ছে। নিজের দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সংস্কৃতি সচেতন হবার ফলে প্রাপ্ত নানারকম প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিতে তাকানো বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি কোটালিপাড়ায় একটি তাম্রলিপি পাওয়া গিয়েছে। এই তাম্রলিপি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের এক অনাবিস্কৃত তথ্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। খবরটি জনকণ্ঠ থেকে হুবহু কপি করে এই ব্লগে রেখে দিলাম। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদেরকে এই খবরটি অনেক সহায়তা করবে। যারা বাংলাদেশের অতীত সম্পর্কে হীন ধারণাপোষন করে, তারাও নতুন খবর জানতে পারবে।


নতুন রাজা দ্বাদশাদিত্য, গুপ্তোত্তর যুগের ইতিহাস ফের লেখার তাগিদ
কোটালীপাড়ার প্রাচীন তাম্রলিপির পাঠোদ্ধার

মোরসালিন মিজান

বাংলার সমৃদ্ধ অতীত। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সে ইতিহাসের আরও একটি অধ্যায় সম্পর্কে জানা গেছে সম্প্রতি। ৩২ বছর আগে কোটালীপাড়ায় পাওয়া তাম্রলিপি থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীনবঙ্গ অঞ্চলে মহারাজাধিরাজ দ্বাদশাদিত্য নামে একজন ক্ষমতাবান শাসক ছিলেন। বর্ণাঢ্য শাসনামল ছিল তাঁর। তবে এতকাল কিছু জানা যায়নি। ইতিহাসের বইয়ে যুক্ত হয়নি নতুন এ অধ্যায়। দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে বিশিষ্ট লিপি ও ইতিহাস গবেষক শরিফুল ইসলাম এ তথ্য আবিষ্কার করেছেন। পাঠোদ্ধারকৃত লিপিমুদ্রার আলোকে গুপ্তোত্তর যুগের ইতিহাস নতুনভাবে লেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রামশীল গ্রাম থেকে ১৯৮০ সালে আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন তাম্রলিপিটি। এর পর থেকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্মারকের সঙ্গে এটিও জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত হচ্ছে। প্রদর্শনী কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, তাম্রলিপিটি চতুর্ভুজ আকৃতির। দৈর্ঘ্য ১১ ইঞ্জি। প্রস্থে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি। তাম্রপাতের উভয়দিকেই লিপি উৎকীর্ণ। এর মুখ্যদিকে ১৭ লাইন এবং গৌণদিকে ১৭ লাইন। এভাবে উভয়দিকে মোট ৩৪ লাইনের লিপি খোদিত রয়েছে। তাম্রলিপিটির মুখ্যদিকের উপরিভাগে গজলক্ষ্মীসিল সংযুক্ত। সিলটি গোলাকার এবং দুটি সমান্তরাল লাইন দ্বারা বিভক্ত। ওপরের অংশে পখের ওপরে দণ্ডায়মান দেবী লক্ষ্মী। তাঁর দুপাশে দুটি হাতি তাদের উদ্ধত শুণ্ডে ধরে রাখা কলসি দিয়ে জল ঢালছে, যা লক্ষ্মীর অভিষেক দৃশ্যের ইঙ্গিত বহন করে। দেবীর হাতে ধরে রাখা পখের ডাটা এবং তার দু’পাশে দু’জন সেবিকা দৃশ্যমান।
জানা যায়, তাম্রলিপিটির যত্নআত্তি ভাল হলেও পাঠোদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বহুকাল উপেক্ষিত ছিল। যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ গবেষকের অভাবে এ কাজ শুরু করা যায়নি। পরিশেষে গত কয়েক বছর আগে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন জাদুঘরেরই কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি একাধারে ব্রাহ্মী, খরোস্ট্রি, অক্ষর ও সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত ভাষা পড়তে সক্ষম। এ তরুণ নিরন্তর গবেষণা শেষে তাম্রলিপিটির পাঠোদ্ধারে সক্ষম হন। আর তখনই আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন বাংলার নতুন এক ইতিহাস। সে ইতিহাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে শরিফ বলেন, তাম্রলিপিতে ব্যবহৃত সিলের নিচে উৎকীর্ণ আছে- ‘বারকম-ল বিষয় অধিকরণস্য’। ‘বারাকম-ল’ ফরিদপুর জেলার প্রাচীন নাম। ‘বিষয়’ শব্দটির অর্থ জেলা। আর ‘অধিকরণ’ বলা যায় আজকের ম্যাজিস্ট্রেটদের। শব্দগুলোকে এক করলে পরিষ্কার হয়, সিলটি ফরিদপুর জেলার ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইস্যুকৃত। তাম্রলিপিটির ভাষা সংস্কৃত এবং গদ্যে লিখিত। তবে কোথাও কোথাও পূর্বভারতীয় প্রাকৃত শব্দের উল্লেখ রয়েছে। লিপিটি ষষ্ঠ শতকের উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মী অক্ষরে লিখিত। গুপ্তলিপির সঙ্গে উৎকীর্ণলিপির ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
শরিফুল জানান, লিপিপাঠ থেকে মহারাজাবিরাজ দ্বাদশাদিত্য নামে প্রাচীনবঙ্গ অঞ্চলের একজন শক্তিশালী শাসকের ইতিহাস জানা যায়। নতুন আবিষ্কৃত মহারাজাধিরাজ গুপ্তানুকৃতির স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন। একই সঙ্গে লিপিটি থেকে ‘আদিত্য’ উপাধিধারী একটি রাজবংশের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। এ রাজবংশের অপর দুই শাসক- মহারাজাধিরাজ ধর্মাদিত্য ও সুধন্যাদিত্য। একই লিপিপাঠে শ্রীহরদত্ত নামে একজন মহাসামন্ত রাজার নাম আবিষ্কৃত হয়েছে। এ রাজবংশের রাজারা গুপ্তরাজাদের পতনের পর প্রাচীনবঙ্গে সার্বভৌম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া অঞ্চল। এছাড়া তাম্রলিপিটির পাঠ থেকে প্রাচীনবাংলার আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক এবং ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কিত বহু তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ১৯০৯ সালে কোটালীপাড়া অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত তিনটি তাম্রলিপির পাঠোদ্ধার করেছিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ পণ্ডিত এফ এ পারগিটার। লিপি পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলায় গুপ্তোত্তর যুগের মহারাজাধিরাজ ধর্মাদিত্য ও গোপচন্দ্র নামে দু’জন শাসকের নাম আবিষ্কার করেন। এর কিছুকাল পরে কোটালীপাড়া থানার ঘুম্রাহাটিগ্রাম থেকে প্রাপ্ত আরেকটি তাম্রলিপির পাঠ উদ্ধার করেন ঢাকা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা কিউরেটর পণ্ডিত নলিনীকান্ত ভট্টশালী। তিনি মহারাজাধিরাজ সমাচারদেব নামে ওই অঞ্চলের একজন শাসকের নাম আবিষ্কার করেছিলেন। অতীতে ফরিদপুর অঞ্চল থেকে এ ধরনের কিছু মুদ্রাও আবিষ্কৃত হয়েছিল। মুদ্রাগুলো বর্তমানে ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মুদ্রার প্রমাণ দিয়ে শরিফুল ইসলাম তাঁর একটি গবেষণা প্রবন্ধে রাজা দ্বাদশাদিত্য ও তাঁর রাজবংশের ইতিহাস পুনর্গঠন করেছেন। পুনর্গঠিত এ ইতিহাস গত কয়েক মাস আগে জার্নাল অব দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অব ক্যালকাটায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। ‘কোটালীপাড়া কপার প্লেট অব দ্রাদাসাদিত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।.
খবরের লিংক

তাম্রলিপির পাঠোদ্ধার ‘আদিত্য’ রাজাদের শাসনকেন্দ্র ছিল কোটালীপাড়া অঞ্চল
মোরসালিন মিজান ॥

 প্রাচীন বঙ্গ অঞ্চলে রাজা দ্বাদশাদিত্য নামে যে একজন ক্ষমতাবান শাসক ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে ১৯৮০ সালে আবিষ্কৃত তাম্রলিপি থেকে পাঠোদ্ধার করেছেন বিশিষ্ট লিপি ও ইতিহাস গবেষক শরিফুল ইসলাম। উক্ত রাজা ও আদিত্য রাজবংশ সম্পর্কে কোন তথ্য আজও ইতিহাস বইয়ে যুক্ত হয়নি।
এই তাম্রলিপি থেকে বাংলার সমৃদ্ধ অতীত সম্পর্কে যে তথ্য জানা গেছে তার প্রথম অংশ ছাপা হয়েছে বৃহস্পতিবার। বাকি অংশ আজ প্রকাশিত হল।
গবেষক শরিফুল জানান, লিপিপাঠ থেকে মহারাজাধিরাজ দ্বাদশাদিত্য নামে প্রাচীন বঙ্গ অঞ্চলের একজন শক্তিশালী শাসকের ইতিহাস জানা যায়। নতুন আবিষ্কৃত মহারাজাধিরাজ নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন। একই সঙ্গে লিপিটি থেকে ‘আদিত্য’ উপাধিধারী একটি রাজবংশের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। এ রাজবংশের অপর দুই শাসকÑ মহারাজাধিরাজ ধর্মাদিত্য ও সুধন্যাদিত্য। একই লিপিপাঠে শ্রীহর দত্ত নামে একজন মহাসামন্ত রাজার নাম আবিষ্কৃত হয়েছে। এ রাজবংশের রাজারা গুপ্তরাজাদের পতনের পর প্রাচীন বঙ্গে সার্বভৌম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া অঞ্চল। এছাড়া তাম্রলিপিটির পাঠ থেকে প্রাচীনবাংলার আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক এবং ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কিত বহু তথ্য জানা গিয়েছে।
জানা যায়, এর আগে ১৯০৯ সালে কোটালিপাড়া অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত তিনটি তাম্রলিপি পাঠোদ্ধার করেছিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ পণ্ডিত এফ এ পারগিটার। লিপি পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলায় গুপ্তোত্তর যুগের মহারাজাধিরাজ ধর্মাদিত্য ও গোপচন্দ্র নামে দু’জন শাসকের নাম আবিষ্কার করেন। এর কিছুকাল পরে কোটালিপাড়া থানার ঘুম্রাহাটি গ্রাম থেকে প্রাপ্ত আরেকটি তাম্রলিপির পাঠ উদ্ধার করেন ঢাকা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা কিউরেটর পণ্ডিত নলিনীকান্ত ভট্টশালী। তিনি মহারাজাধিরাজ সমাচারদেব নামে ওই অঞ্চলের একজন শাসকের নাম আবিষ্কার করেছিলেন। অতীতে ফরিদপুর অঞ্চল থেকে এ ধরনের কিছু মুদ্রাও আবিষ্কৃত হয়েছিল। মুদ্রাগুলো বর্তমানে ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মুদ্রার প্রমাণ দিয়ে শরিফুল ইসলাম তাঁর একটি গবেষণা প্রবন্ধে রাজা দ্বাদশাদিত্য ও তাঁর রাজবংশের ইতিহাস পুনর্গঠন করেছেন। পুনর্গঠিত এ ইতিহাস গত কয়েক মাস আগে জার্নাল অব দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অব ক্যালকাটায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। ‘কোটালিপাড়া কপার প্লেট অব দ্রাদাসাদিত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ আলোকে গুপ্তোত্তর যুগের ইতিহাস নতুনভাবে লেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা। একইসঙ্গে জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্যান্য প্রাচীন লিপিপাঠে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

খবরের লিংক

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger