Tuesday, May 8, 2012

নবীগঞ্জে স্কুলে ভর্তি হতে চাওয়ায় শিক্ষক কর্তৃক মাদ্রাসা ছাত্র নির্যাতিত আহত

সিলেটের নবীগঞ্জে মাদ্রাসায় না পড়ে স্কুলে ভর্তি হতে চাওয়ার কথা বলায় এক মাদ্রাসা ছাত্র তার মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আরবীয় সংস্কৃতি শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ কওমি মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্র কামিল আহমদ (১২) এর মাদ্রাসায় পড়তে আর ভালো লাগতো না। স্কুলের উন্নত আধুনিক জীবনযাত্রা তাকে আকৃষ্ট করে। মাদ্রাসার একঘেয়ে জীবন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনবরত হুমকি ধামকি ও ভীতি প্রদর্শনের ফলে সে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। নিজের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হবার জন্য সে চেয়েছিল স্কুলে ভর্তি হতে। এজন্য সে প্রায়ই কান্নাকাটি করতো আর তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করত। মাদ্রাসা ছেড়ে স্কুলে ভর্তি হতে চাওয়াটা ছিল তার অপরাধ। ইসলামী শিক্ষার খাঁচা থেকে মুক্ত হতে চাওয়ার অপরাধে আরবীয় ইসলামী সংস্কৃতির দাস মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আবু ইউসুফ তাকে বেদম পেটায়। এক পর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। সম্পূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে 'সবুজসিলেট' ওয়েব পত্রিকায়।



নবীগঞ্জে স্কুলে ভর্তির কথা বলার অপরাধে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে নির্যাতন
নবীগঞ্জে স্কুলে ভর্তির কথা বলার অপরাধে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে নির্যাতন

নবীগঞ্জে স্কুলে ভর্তির কথা বলায় মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ৭ম শ্রেনীর ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহতনবীগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধা কওমি মাদরাসার ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রকে গত রোববার দুপুরে মাদরাসায় পড়া লেখা বাদ দিয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার অপরাধে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক বেত্রাঘাত করে আহত করেছে । তাকে তার অভিভাবকরা আহত অবস্থায় নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

জানা যায়,বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা গ্রামের মুছাবিবর মিয়ার ছেলে কামিল আহমদ (১২) কে তার পিতা প্রাইমারী শেষ করে প্রায় ২ বছর পুর্বে নবীগঞ্জের গন্ধা কওমি মাদরাসায় ভর্তি করেন । এখানে সে মাদরাসার ছাত্রাবাসে থেকে পড়া লেখা করে আসছিল । মাদরাসায় তার লেখা পড়ার প্রতি তার মনোযোগ না থাকায় । ঐ ছাত্রের ইচ্ছে ছিল স্কুলে পড়া লেখা করার । এ নিয়ে সে প্রায়ই একথা মাদরাসার শিক্ষকদের বলে আসছিল এবং কান্নাকাটি করে স্কুলে ভর্তি হবার জন্য বলে । এ অবস্থায় গত রোববার মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবু ইউসুফ কে ঐ জানায় সে আর মাদরাসায় পড়া লেখা করবে না বলে জানালে শিক্ষক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেত দিয়ে বেধরক ভাবে বেত্রাঘাত করেন । এতে সে গুরুতর আহত হলে খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে তার পিতা মুছাবিবর মিয়া মাদ্রাসায় এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন । এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এ ধরনের কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি ফেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবরের লিংক। এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বৎসরের (২০১১) অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে।
বাংলাদেশের শিশুরা এখন আর মাদ্রসায় পড়তে চায়না। তারা মাদ্রাসা শিক্ষার ভণ্ডামী বুঝে ফেলেছে। তাই তারা উন্নত জীবনের আসায় মাদ্রাসা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, বাংলাদেশ সরকার এখনও শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের মোটা অংশ ব্যয় করে না। যার সুযোগ নিচ্ছে আরব অঞ্চল থেকে অনুদানপ্রাপ্ত এইসব আরবীয় ভাবধারার মাদ্রাসাগুলো। এই মাদ্রাসাগুলোয় না গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত, না ফুল দেয়া হয় শহীদ মিনারে। আরবীয় সংস্কৃতির শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে আজেবাজে কথা শেখায় বাঙালি শিশুদেরকেই। এটা বাঙালি শিশুরা বুঝতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস। আগামীতে সকল বাঙালি শিশু, তরুণ প্রজন্ম আরবীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন সম্পর্কে সচেতন হবে এই আশা করি। ইসলামী শিক্ষার নির্মম শিকার বাঙালি শিশুটির জন্য বুকের গভীর থেকে অনেক ভালোবাসা প্রকাশ করছি।

# এই পোস্টটির সাথে ইসলামী শিক্ষাঃ দেরী করে মাদ্রাসায় আসার কারণে বেত্রাঘাত এবং ইসলামী শিক্ষাঃ নামাজ না পড়ার কারণে ১৪ মেয়ে শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা পোস্টদুটোর লিংক সংগ্রহ করেছি 'ধর্মকারী' সাইট থেকে।

1 comments:

রাবেয়া said...

ইহাই ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা। জোর করে, হুমকি দিয়ে, র্নিযাতন করে, শাস্তি দিয়ে ইসলামের শিক্ষা মানুষকে দিতে হয়। না হলে, কারও ঠেকা পড়ে নি এই আগ্রাসী র্ধমকে গ্রহণ করার।

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger