Tuesday, May 8, 2012

ইসলামী শিক্ষাঃ দেরী করে মাদ্রাসায় আসার কারণে বেত্রাঘাত

সিলেট নগরীর নবাবরোড এলাকার মাদারিছুল আল হারামাইন মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার শিশু ওমর ফারুক
সিলেট নগরীর নবাবরোড এলাকার মাদারিছুল আল হারামাইন মাদ্রাসায় গত ১০/১০/২০১১ তারিখে হাফিজি বিভাগের ছাত্র ওমর ফারুক আধাঘন্টা দেরী করে এসেছিল। এই অপরাধে তাকে বাথরুমে আটকে বেত দিয়ে পেটাতে পেটাতে আহত করে ফেলা হয়েছে।


সম্পূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে 'সবুজসিলেট' ব্লগপত্রিকায়।
দেরি করে মাদ্রাসায় যাওয়ার ‘অপরাধে’ ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে বাথরুমে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত মাদ্রাসাছাত্রকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নগরীর নাববরোড এলাকার মাদারিছুল আল হারামাইন মাদ্রাসায় গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত মাদ্রাসাছাত্রের নাম ওমর ফারক (১০), সে মাদ্রাসায় হাফিজি বিভাগের ছাত্র।

ওমর ফারুক কুয়ারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মইনুল হকের ছেলে। প্রায় দুই বছর হয় তাঁকে ওই মাদ্রাসায় হাফিজ শিক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়। ওমরের পরিবারের সদস্যরা জানান, মাদ্রাসায় হাফিজি শিক্ষার প্রথম পাঠ ভোর সাড়ে ছয়টায় শুরু হয়। প্রতিদিন সে ওই সময়ের আগেই মাদ্রাসায় যেত। ওমর গতকাল বাসা থেকে বের হয়ে বাথরুম করার জন্য আবার বাসায় ফিরে আসে। এতে তার আধাঘন্টা সময় পাড় হয়ে যায়।

আধাঘন্টা দেরি করে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে হাফিজি বিভাগের শিক্ষক মাসুম বিল­াহ ওমরকে বাথরুমে নিয়ে যান। বাথরুমের মধ্যে আটকে রেখে কস্টেপ পেছানো বেত দিয়ে মারধর করে বাথরুমে বন্দি করে রাখেন। মারধরে বাথরুমের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েছিল ওমর। এ অবস্থায় প্রায় এক ঘন্টা পর বাথরুম থেকে ওমরকে নিয়ে একটি শয্যায় রাখা হয়।

ওমরের বাবা মইনুল হক জানান, দুপুর ১১টায় মাদ্রাসা ছুটি হয়। ছেলে বাসায় ফিরছে না শুনে তিনি খোঁজ নিতে গিয়ে ওমরের সহপাঠীদের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেন। তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে ওমরকে একটি বিছানায় অবচেতন অবস্থা দেখতে পান। তার এ অবস্থা সম্পর্কে ওই সময় মাদ্রাসার শিক্ষকেরা কিছু না বলায় ওমরকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় এসে ওমর মারধর করার কথা জানায়। ওমরের শরীরে জখমের চিহ্ন দেখে তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু সার্জারি বিভাগের নূরুল আলম জানান, তার উরু ও নিতম্বে একাধিক জখম রয়েছে। ডান উরুর জখমে রক্ত জমাট বাঁধা।  মারধর করায় সে মারাত্মক ভয় পেয়েছে। ভয় থেকে অবচেতন হয়ে পড়েছিল।  নবার রোডের সৌরভ আবাসিক এলাকায় চারতলা বিশিষ্ট একটি বাসার মধ্যে ‘মাদারিছুল আল হারামাইন’ মাদ্রাসার অবস্থান। ২০০৯ সাল থেকে চালু এ মাদ্রাসায় শুধু মাত্র হাফিজি বিভাগ চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২ জন। ওমর ফারুককে মারধর করার ঘটনা সম্পর্কে অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি ঘটনাটি অস্বীকার করেন।

ওমরকে হাসপাতালে ভর্তি ও পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে সুনির্দ্দিষ্টভাবে জানালে অধ্যক্ষ বলেন, দেরি করে মাদ্রাসায় আসার অপরাধে ওই ছেলেকে হাফিজি শিক্ষক একটু শাসন করেছেন বলে শুনেছি।

শিক্ষার্থীদের মারধর করা সরকার নিষিদ্ধ করেছে, তবু কেন মারধর করা হলো-এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ বলেন, ঘটনাটি স্বাভাবিক ছিল। এখন অতিরঞ্জিত করে প্রচার হচ্ছে। আমরা ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করব।

অধ্যক্ষের বক্তব্য প্রসঙ্গে মইনুল হক বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর অধ্যক্ষ ওমরকে দেখতে এসেছিলেন। এ সময় তিনি ঘটনাটি আপোসে নিষ্পত্তির প্রস্তাব করেন। আমরা এ প্রস্তাবে রাজি হইনি। ছেলে কিছুটা সুস্থ্য হলে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেব। ঘটনার পরপরই হাফিজি শিক্ষক মাসুম বিল­াহ মাদ্রাসা থেকে চলে যান। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
খবরের লিংক


মাত্র ১০ বৎসর বয়সের শিশুটিকে ইসলামী শিক্ষার দালাল যে শিক্ষাটা দিল, তা সে সারাজীবন মনে রাখবে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সে এই ঘটনাটিকে স্মরণ করবে ও ইসলামী দানবের ভয়ে শিউরে উঠবে। ইসলামী তথা আরবীয় সংস্কৃতি এভাবেই বাচ্চাদের মনে আতংক সৃষ্টি করে শিক্ষাদান করে। কোমনপ্রাণা বাচ্চাদেরকে বাধ্য করে ইসলামী নিষ্ঠুর নৃশংস আইন কানুন মানতে। কোরান ও তার ব্যাখ্যাসমূহের নীতিবোধের আগ্রাসন আমাদের দেশের শিশুদের উপর যে  হিংস্র অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, তা কোনমতেই মেনে নেয়া যায় না। সভ্য-শিক্ষিত, আধুনিক প্রত্যেক মানুষের এরকম বর্বর ধ্যান ধারণার বিরোধীতা করা উচিত।

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger