বাংলাদেশের দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন তার এভারেস্ট আরোহণের উত্তেজনাকর সফলতাকে বাংলাদেশের নারী মুক্তি আন্দোলনে জড়িতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। ভালো লাগল। চারপাশের নারীবিরোধী বিভিন্ন খবরের মাঝে এই খবরটি ভাল লাগল। গত ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশী নারী হেসেব এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন নিশাত মজুমদার। আর ২৬ মে সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে ওয়াসফিয়া নাজরীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন। পত্রিকাওয়ালারা যেমনটা লিখেছে যে তারা এভারেস্ট বিজয় করেন। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। বিজয় সাধারণত একজনই করে, আর তা করেছে এডমন্ড হিলারী। পরের যারা তারা আসলে চূড়ায় উঠছে, বিজয় করছে না। তা যা হোক। বাংলাদেশের অবলা, দুর্বল নারীর ভাবমূর্তি ভেঙে নিশাত ও ওয়াসফিয়া যা অর্জন করেছে, তার মূল্য কম নয়। আমাদের সমাজের পৃক্ষাপটে নারীকে যে রূপে দেখতে চাওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে তারা যেতে পেরেছেন, সফলতা অর্জন করেছেন- এটাই সত্যি।
আমি ওয়াসফিয়ার প্রতি অশেষ ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে তিনি তার সফলতাকে বাংলাদেশের নারী মুক্তি আন্দোলনে জড়িতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। নারী মুক্তি আন্দোলন যে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রচেষ্টা, তা খুব কম মানুষই স্বীকার করেন। খুব কম মানুষই নারীমুক্তি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন। ওয়াসফিয়া নিজের পক্ষপাত ঘোষণা করার মাধ্যমে আরও একটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, দেশে ফিরে তিনি প্রথমেই রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদেরকে স্মরণ করেছেন। নিজের কীর্তি শুনিয়েছেন। এই উদাহরণ আগামী দিনের দেশপ্রেমিক বাঙালি তরুণ-তরুণীকে প্রেরণা যোগাবে। তরুণ প্রজন্মের নারী হিসেবে তিনি নতুন দিনের নারীদের নতুন বার্তা শোনাতে পারবেন- এটাই আমার আশা।
Sunday, June 10, 2012
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 comments:
Post a Comment