গত ১ জুন তারিখে সন্ধ্যার পর ঢাকার হাতিরপুলে অবস্থিত নাহার প্লাজায় সোনালী রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয়ে খুন হয় কিশোরী রুমি। লাশ গুম করতে তাকে ২৬ টুকরো করা হয়। এই কাজটি করে তার প্রেমিক সাইদুজ্জামান বাচ্চু (৩০)। নায়কের মতো সুদর্শন চেহারা তার। আবেগপ্রবণ মেয়েরা এইরকম চেহারার পুরুষদের প্রেমে সহজে পড়ে যায়। আর এই সুযোগটিই সে নিত। মোবাইলে পরিচয়ের সুযোগে অনেক মেয়েকে ইতিপূর্বে সে প্রেমের কথা বলে বিছানায় নিয়ে গেছে। ভোগ করেছে। তারপর নতুন একজনকে পেয়ে পরিত্যাগ করেছে। এবার লোকজন রুমির সাথে বিয়ে দিতে চাওয়ায় সে তাকে খুন করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। খবরটি সবার জানা। অনেকে নানারকম মন্তব্যও করছেন। সাইদুজ্জামান বাচ্চুকে পিশাচ, খুনী, নররাক্ষস ইত্যাদি বিশেষণে ডাকছেন। কিন্তু কেউ ভাবছেনা, সে কেমন চিন্তাকাঠামোর মানুষ যে একজন নারীকে যৌনতার জন্য ব্যবহার করাই শুধু শিখেছে। ভালবাসা বা সম্মান করা তো দূরের কথা, তাকে বাঁচতে পর্যন্ত দিতে সে রাজী নয়। তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে অনেকে সন্দেহপোষণ করেছে। কিন্তু আমি তা করি না। যে নীতিহীন সমাজব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যে বিদেশী আক্রমণবাদী নারীবিরোধী সংস্কৃতির দাসত্ব আমরা করি, তার ফলাফল এমন হওয়াই স্বাভাবিক।
সুস্মিতা বা রুমি নামের ১৬-১৮ বৎসরের কিশোরী মেয়েটি যে স্বপ্ন দেখেছিল একই স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে। কিন্তু তারা জানেনা সাইদুজ্জামান বাচ্চু নামের নারীলোভী প্রতারক পুরুষরা বসে আছে তাদের অপেক্ষায়। সুদর্শন চেহারা আর মিস্টি কথার মালা নিয়ে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি, নারী-পুরুষের সম্পর্ক আজ কোথায় গেছে, তা ভাববার সময় বোধহয় আর কারোরই নেই।
Sunday, June 10, 2012
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 comments:
Post a Comment