Tuesday, September 18, 2012

নামের আগে 'শ্রী' নেই 'মো' আছে

বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে একটা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় যে, কলকাতার বাংলা পত্রিকাসমূহে বাংলাদেশী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের নাম বিকৃত লেখা হয়। বিপরীতে কলকাতার লেখকরা বলেন যে তারা মূল আরবি-ফারসি অনুসরনে নামগুলো লেখার চেষ্টা করেন। যা আবার বাংলাদেশীরা গ্রহণ করেন না।

এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, নাম বিকৃতকরণের অভ্যাস আসলে বাংলাদেশী মুসলিমদের মধ্যেই দেখা যায়। যারা বেশি তথ্য পেতে চান, তারা যে কোন বাংলাদেশী হিন্দুকে তার সার্টিফিকেট নাম জিজ্ঞাসা করে দেখুন, তিনি নামের পূর্বের 'শ্রী' বাদ দিয়ে বলবেন। কারণ হিন্দুদের নামের পূর্বের 'শ্রী' সরাসরি সরকারিভাবে শিক্ষাবোর্ড থেকে কেটে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। রেজিস্ট্রেশনের সময় 'শ্রী' লিখলেও তা কেটে দেয়া হয়। অথচ মুসলিম ছাত্রদের নামের পূর্বের 'মো' ঠিকই থেকে গেছে। বাহুল্যবোধে 'মো' টিকে কেউ কখনও বাতিল করার কথা বলেনি কিংবা বোর্ড থেকেও কেটে দেয়নি। হিন্দুদের নামকে এভাবে বিকৃত করার প্রতিবাদে কিন্তু কখনও কোন বাংলাদেশী মুসলিম সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে একটা কথাও বলতে শোনা যায় নি।

কেন? কারণ কি?

কারণ একটাই। মুখে তারা অসাম্প্রদায়িকতার ফেনা তুলে কলকাতার হিন্দু বাঙালিদের কাছ থেকে ঠিকই সুবিধা আদায় করে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে তারা এক একজন আরবীয় সংস্কৃতির দাস মুসলমান মাত্র। এর এক কণা বেশিও নয়।

সমসাময়িককালের হিন্দু ছাত্রদের সার্টিফিকেট দেখুন। হিন্দু ছাত্রদের সুন্দর সুন্দর সংস্কৃত- বাংলা নামকেও তারা বিকৃত ইংরেজিতে লিখছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই জাতীয় ঘটনা ঘটছে ইচ্ছাকৃত। অর্থাৎ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দুবিরোধী মানসিকতা থেকে হিন্দু ছাত্রদের নাম বিকৃতভাবে লিখছে। ক্লাশ নাইনে রেজিস্ট্রেশনের সময় মুসলমান শিক্ষকরা তাদের নোংরা মানসিকতার পরিচয় এভাবেই প্রকাশ ঘটাচ্ছে। যার প্রতিবাদ তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক মুক্তচিন্তার মুসলিম লেখকদের কাছ থেকে কখনও দেখা যায় নি। তাদের এই অপনীতিবোধের উৎস যে আরবীয় জাতীয়তাবোধ, তা বোধহয় নতুন করে আর বলতে হবে না। নামে তারা বাঙালি সাহিত্যিক কিন্তু আচরণে তারা আরবীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের এক একটা ইসলামী সৈনিক।

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger