Wednesday, January 25, 2012

মুসলিম নারীর প্রেম-যৌনতা নিয়ে বই Love Inshallah

মুসলিম নারীর প্রেম-যৌনতা নিয়ে বই love insullahজীবিত প্রাণীমাত্রেরই একটি সাধারণ আচরণ হচ্ছে সে যে জীবন্ত তা বিভিন্ন কার্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ করা। মানুষও তেমনি বিভিন্ন সক্রিয় আচরণের মাধ্যমে নিজের বেঁচে থাকা প্রকাশ করে; মানবীয় নানারকম অনুভূতির চর্চা, বিকাশ ও প্রকাশ করে। কিন্তু সমাজ সংস্কার ভেদে মানুষের চিন্তাভাবনার বহির্প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এক এক সমাজের মানুষ এক এক রকম ভাবে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে। কিন্তু কিছু কিছু অনুভূতি আছে যা চিরন্তন। তেমনই একটি মানবীয় আচরণ হচ্ছে অন্যকে ভালোবাসা। এর মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসার আকর্ষণ সর্বাধিক। ধর্ম, সমাজ, সংস্কার মানুষকে অদ্ভূত সব নীতিনিয়মের মাধ্যমে বেঁধে রাখতে চায়। পৃথিবীতে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্ম মানুষের মনুষ্যত্বকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এইসব ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম আরবে জন্ম লাভ করেছে। সেই দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ইসলাম ধর্মের মূল বিষয়। আর তা মানুষকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বা করতে চায় তা অন্য সংস্কৃতিগুলোর চাইতে নানারূপে অন্যরকম। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নারীর প্রতি আচরণ। নারীরাও যে মানুষ, তাদেরও যে একটি মন আছে, আর তা যে বিশ্বের অন্য ধর্মাবলম্বী নারীদের মতোই কোমল, ভালোবাসাকাতর, তা ইসলাম বুঝতে চায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে নারীরা হচ্ছে 'শয়তানের দ্বার'। আর তাই যতপ্রকারে সম্ভব নারীর অনুভূতি, চিন্তাশক্তি, মননশীলতা, যৌনতা, উল্লাস-উচ্ছ্বাসের প্রকাশকে বাঁধা দেয়। মুসলিম পরিবারের ধর্মান্ধ অন্ধকার প্রকোষ্টে একটি মুসলিম কুমারী মেয়ে কিভাবে বড় হয়, শরীরের পরিবর্তন তার কোমল মনের গহীনে কিভাবে ভালোবাসার ফুল ফোটে এসব মুসলিম সমাজ জানতে চায় না, স্বীকারও করে না। কিন্তু পরিবারিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র বন্ধনের ঘেরাটোপের মধ্যেও বাস করে মুসলিম নারীরা কিভাবে পুরুষকে দেখে, কিভাবে ভালোবাসার জন্য, আলিঙ্গনের জন্য কাতর হয়, যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে তার প্রকাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এরকম বিরুদ্ধ পরিবেশে থেকেও মুসলিম মেয়েরা ভালোবাসাকে কিভাবে মূল্যায়ন করে, নিজের মনের যৌন আগ্রহ, যৌন আকর্ষণকে কিভাবে প্রকাশ করে, কেমন করে নিজের মনের ভাব-ভালোবাসা, শারীরিক চাহিদাকে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যায় – ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নতুন একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজি বই। ২৫ জন আমেরিকাবাসী মুসলিম নারীর জীবনের ভালোবাসা ও যৌনতা নামক গোপন অধ্যায়টির রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এই বইটিতে। ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক টাইমসের বইয়ের পাতায় এর একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে।

বইটিতে বাংলাদেশ (তানজিলা আহমদ), ভারত (সুজানা শাহ), পাকিস্তান (লায়লা খান), ইরান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৫ জন আমেরিকা অভিবাসী মুসলিম নারীর জীবনে প্রেম কিভাবে এসেছে তার বাস্তব বর্ণনা রয়েছে। তাদের প্রেম প্রত্যাশা, যৌনবোধ, সমকামীতা প্রভৃতি বিষয়ে তারা নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করেছে মুক্তভাবে। রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, আইনজীবি প্রভৃতি কর্মে রত নারীরা তাদের জীবনে আসা প্রেমকে, আগ্রহ, আকর্ষণকে কিভাবে রূপায়ন করেছে, তার বিস্তারিত হৃদয়গ্রাহী অকপট বর্ণনা বইটির প্রতি বিশ্বের পাঠকদের দৃষ্টি ইতিমধ্যে কেড়ে নিয়েছে।

এই মুসলিমা'রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন ধর্মের পুরুষের প্রতি প্রেম- যৌন আকর্ষণ অনুভব করেছে। তারা চেয়েছে নিজের মনের ইচ্ছাটাকে বাস্তবায়ন করবার, কিন্তু সবক্ষেত্রেই বিধিনিষেধ, চোখ রাঙানির শিকার হতে হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ লড়াই করেছে, জয়ী হয়েছে।

জানি বাংলাদেশে বসে বইটা কিনতে পারবো না। যদি বিদেশে বসবাসরত মুক্তচিন্তার অধিকারী কেউ বইটি পড়ে তার একটা রিভিউ বাংলায় লিখতেন, তাহলে বাংলাদেশের মুসলিম নারীরাও অন্য ধর্মের পুরুষকে ভালোবাসার, প্রেম নিবেদনের আকুতি, যৌন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সাহস অর্জন করতে পারত।

কিছু প্রয়োজনীয় সূত্র:

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger