Sunday, March 18, 2012

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের বাংলাদেশী দর্শক ও আমার ভাবনা

ভারত ৬ উইকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জয়ী হয়েছে। যখন শচীন টেন্ডুলকার আউট হয়, তখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখা বাংলাদেশী দর্শক ও স্টেডিয়ামের দর্শকদের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল যে, পাকিস্তানী দুলাভাইরা খেলছে অতএব ভারত তো হেরেই যাচ্ছে। খেলা শেষে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। সামনে দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার একটু সামনের মোড়টা এখান থেকে দেখা যায়। অনেক দর্শক চা-বিড়ি'র ছোট দোকানের টিভির সামনে জড়ো হয়েছিল। তাদের উল্লাসহীন পায়চারী দেখে মনে হল আসলে আমি ভুল বলিনি। দুলাভাই যদি জাতশত্রু হিন্দুর কাছে হেরে যায়, তাহলে তো মন খারাপ হবেই। ভারত হারলে কিন্তু এতক্ষণে আনন্দ মিছিল শুরু হয়ে যেত। তখন টেন্ডুলকার হারার পর যেভাবে ফটাফট পটকা ফুটছিল, ভারত হারলে তো এতক্ষণে বৃষ্টির মত ককটেল ফোটানো শুরু হয়ে যেত।

হাসিনা- খালেদা দেশ বিক্রি নিয়ে নানারকম কথা বলে, পরস্পরকে দোষ দেয়। কিন্তু আসলে জনগণ কি চিন্তা করে, তাদের ভাবনা কিরকম- এটা নিয়ে নেত্রীদ্বয়ের মাথাব্যথা আছে কি নেই তা বুঝিনা। আমার মনে হয় একবার গণভোট দেয়া যেতে পারে যে:- "বাংলাদেশকে কি আবারও পাকিস্তানের সাথে একীভূত করে দেয়া উচিত কি না?" একটি সহজ 'হ্যাঁ'/ 'না' ভোট। জানি স্বল্পসংখ্যক দেশপ্রেমিক-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হয়তো আমার এই কথার সাথে একমত হবেন না। আমার উপর মন খারাপ করবেন। আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করবেন। তারপরও ইচ্ছা করে এই প্রশ্নটা করলাম। কারণ মিসরে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পড়েছে ব্রাদারহুডের পক্ষে, তুরস্কে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পড়েছে ইসলামতন্ত্রের পক্ষে। বাংলাদেশের জনগণেরও মনোভাব যাচাই করা দরকার- আসলে জানা দরকার যে, দেশের বেশিরভাগ মানুষের মনে কি আছে? তাদের সমর্থন কার পক্ষে? যারা বলে- দেশে রাজাকারের সংখ্যা কম, নব্য রাজাকারের ভাত নেই, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা নেই, বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক নয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেশের জনগণের মনে এখনও সজীব, বাংলাদেশের মুসলিম মানসিকতা অন্যান্য ইসলামী দেশের মুসলমানদের মানসিকতা থেকে উন্নত তারা হয়তো এই ভোটের ফলাফল দেখে একটি যথাযথ উত্তর পেতেন।

আপনি মানুন আর নাই মানুন ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের দিন বাংলাদেশী দর্শকদের আচরণ দেখে আমার মনে এই প্রত্যাশাটা খুব বেশি করে মনে পড়ে।

0 comments:

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger