Saturday, April 7, 2012

গল্পকার, নাট্যকার, কাহিনী, চরিত্র, অভিনেতা সবাই মুসলমান কিন্তু দোষ হল পরিচালক হিন্দুর

সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানা উপজেলায় হুজুর কেবলা নাটক মুসলমানদের হাতে ধ্বংস হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী বাড়িঘর পাড়াসাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা শুরু হয়েছে 'হুজুর কেবলা' গল্পের নাট্যরূপ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে। এই গল্পের গল্পকার মুসলমান, নাট্যরূপ দিয়েছে মুসলমান, নাটকের চরিত্রগুলো মুসলমান, কাহিনী ইসলাম ধর্মের পীরবাদ নিয়ে, অভিনয় যারা করেছে তারাও মুসলমান। শুধু পরিচালক ছিল হিন্দু। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। (বোঝাই যায়, পদাধিকার বলে তাকে নাটকটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।)

নাটকের সংলাপ হিসেবে কি বলা হয়েছে তা আমি জানিনা, কোন পত্রিকাতে আসেনি। কিন্তু আবুল মনসুর আহমদের 'হুজুর কেবলা' গল্পটি পড়লে বোঝা যায়, কি বলা হতে পারে। তো, সে জন্য তো নাটক পরিচালক বা তার পরিবার বা প্রতিবেশীর দোষ হতে পারে না। দু'একটা সংলাপের জন্য যদি ইসলাম ধর্মের অপমান ঘটে, তার জন্য দায়ভার সম্পূর্ণ গিয়ে পরে গল্পকারের ঘাড়ে। গল্পকার এমন গল্প লিখেছেন কেন? তার গল্প নিষিদ্ধ করার দাবী জানানো হোক, কিংবা তাকে বাংলা সাহিত্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব তোলা হোক। নাট্যরূপ যে দিয়েছে সেই মুসলমান ব্যক্তিটিকে ফাঁসি দেয়া হোক, যারা অভিনয় করেছে সেইসব বালকবালিকাকে ইসলামী শরীয়ত বিচার অনুযায়ী প্রকাশ্যে পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক এমনকি পরিচালক হিসেবে থেকেও যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু আমার সহজ প্রশ্ন এটাই যে পরিচালকের প্রতিবেশীরা কি দোষ করেছে? মুসলমানরা বলে থাকে একজন সন্ত্রাসী মুসলমানকে দিয়ে সব মুসলমানকে বিচার করা ঠিক নয়। কিন্তু মুসলমান দেশে মুসলমানরা কি করছে? একজনের কারণে সমস্ত হিন্দু পাড়াটাকে লন্ডভন্ড করা হল কেন? কোন মুসলমানের আত্মসম্মান আছে কি এর কোন উত্তর দেয়ার?

আপনাদেরকে জানাই যে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ'র 'লালসালু' এবং কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' নাটকেও এমন কাহিনী আছে। এগুলোকে সহজে ইসলামবিরোধী লেখার তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে। এগুলো নিয়ে আপনারা কথা বলুন। এই সাহিত্যগুলো নিষিদ্ধ করার দাবী জানান।

বাংলা ব্লগজগতে এ কদিন খুঁজে দেখলাম আমার ব্লগ, সচলায়তন, উন্মোচন, মুক্তাঙ্গন কোথাও সাতক্ষীরার হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কোন আলোচনা নেই। ভারতীয় পণ্য, হিন্দী ভাষা (হিন্দু সংশ্লিষ্ট) বর্জন নিয়ে তাদের খুব মাতামাতি কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে ঘটনা সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নিয়ে তারা একেবারে নিশ্চুপ। কেন? কারণ বোঝা কঠিন নয়। মুসলমান হয়ে কি মুসলমানের অপরাধের কথা বলা যায়, নাকি? ইতিহাসের দায় আপনারা কেউ এড়াতে পারবেন না?- শুধু এটুকু মনে রাখুন।

ছবিসূত্র: মনে নেই, দুঃখিত, বিডিনিউজ২৪ হবে হয়তো। ছবিটি কম রেজুলেশনেই পাওয়া গেছে, তাই লেখাগুলো স্পষ্ট নয়।

1 comments:

Anonymous said...

কারন হিন্দুদের গলা কাটার জন্য আল্লাহর সৈনিকদের এটাই ছিল মোক্ষম সুযোগ

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger