Tuesday, May 8, 2012

নওগাঁতে শুধু আদিবাসী মারা গেলেন কেন?

বিখ্যাত সামাজিক আলোচনার ব্লগসাইট "উন্মোচন" এ একটি লেখা পড়লাম “শীল পাটায় ঘষাঘষি মরিচের দফা সারা” দুই জোতদারের বিরোধ ৪ আদিবাসী কৃষি শ্রমিক খুন"। ৪ মে ২০১২ তারিখ (শুক্রবার) সকাল নয়টার দিকে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চকগোপাল গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ঘটনা স্থলে ২জন আদিবাসী এবং হাসপাতালে নেবার পথে ১ জন আদিবাসী'র মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আহত আরো এক আদিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ আদিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সচেতন অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে শুধু আদিবাসী শ্রমিকর মারা গেলেন কেন? তারা তো জমির মালিক নন, মালিকের কোন আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব'ও নন।


তারা দিন আনি দিন খাই ভিত্তিতে সারা দিনের চুক্তিতে নির্দিষ্ট কিছু টাকার বিনিময়ে ধান কাটার কাজ করতে এসেছিলেন। তারা তো কারও পক্ষে মারামারি করতে আসেননি। তাহলে কেন তাদেরকে খুন করা হল। ডালিম গিয়েছিল ধান কাটতে। সেই জমির আরেক দাবীদার আনোয়ার খবর পেয়ে লোকজন সহ রামদা, হাঁসুয়া, লাঠিসোটা বল্লম নিয়ে সকাল ৯টার দিকে ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আক্রমন চালায়। ঘটনাস্থলেই মদন মর্ডি ও ইলিয়াছ মার্ডি নামক দুইজন আদাবাসী মারা যান। নরঘাতী হামলা থেকে রক্ষার জন্য কৃষ্ণ মার্ডি প্রাণ ভয়ে দৌড়ে কাকসামি গ্রামের ছবি নামে একজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিলে তাকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বাড়ীর উঠোনে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী নামজা (৪৫) এবং শাবানা (১৩) বলেন, “কৃষ্ণ যখন এই বাড়ীতে আশ্রয় নেয় তখন তাকে ঘর থেকে বের করে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। লাঠির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাঁচার জন্য সে বারবার কাঁকুতি-মিনতি করেছিল। কিন্ত সন্ত্রাসীরা কোন কথা শুনেনি। চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে তাদের হাতে থাকা রামদা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। খুন নিশ্চিত হয়েছে জানার পর পা ধরে টানতে টানতে মাঠে নিয়ে গিয়ে ধান ক্ষেতে ফেলে আসে। একটা নিরাপরাধ মানুষকে খুন করার মধ্যে যে পৈশাচিক আনন্দ আছে, তার লোভেই ওরা এরকম আচরণ করেছে। তার উপর যোগ হয়েছে যে তারা মুসলমান নয়। কাফের, মালাউন। ওদেরকে খুন করা জায়েজ। খুন করলেও আইন, আদালতে তেমন কিছু হবে না। মামলা চলবে না। সরকারও দেখবে না। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোও গা লাগাবে না। মানুষ দু'একদিন আহা উহু করবে, তারপর সব ভুলে যাবে। ওরা তো কীটপতঙ্গের মত। ওদের জীবনের কোন দাম আছে কি?

ইসলামী মানসিকতার এটা একটা আরেক বর্বর রূপ। ইসলামী সংস্কৃতিই এরকম । খুন জখমের মতো নৃশংস কাজে উৎসাহ যোগায়। মানুষ ইসলামী নীতিবাদীতার প্রভাবে এমনই হিংস্র জানোয়ারের মত হয়ে ওঠে।

1 comments:

রাবেয়া said...

আমারও একই প্রশ্ন। নওগাতে শুধু আদিবাসীরা মারা গেলেন কেন? তারা কি মানুষ নয়। মুসলমানরা ওদেরকে খুন করার সময় কি একবারও বিষয়টা ভাবেনি। ওরা কি নওগাকে আদিবাসী মুক্ত করার কথা ভাবে? আদিবাসীদের প্রতি তাদের এতটা প্রকট ভয়ংকর বিদ্বেষের হেতু কি? ইসলামিক মানসিকতা?

Post a Comment

 

Blog Archive

© 2012-2017 আমার ইতিহাস | Powered by: Blogger